গোপাল মোহন্ত, গোবিন্দগঞ্জ :
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে রংপুর চিনিকল বন্ধ থাকলেও ভাল দাম পাওয়ায় আবারো নতুন করে বৃদ্ধি পাচ্ছে আখ চাষ। দীর্ঘ মেয়াদী ফসল হলেও বন্যা সহনশীল, ব্যয় ও রোগ বালাই কম হওয়ায় আখ চাষে আবারো আগ্রহী হচ্ছে কৃষকরা। তবে আখের বহুমুখি ব্যবহার নিশ্চিত করতে দ্রæত রংপুর চিনিকল চালুর দাবী আখ চাষীদের।
রংপুর চিনিকল চালু থাকাকালীণ উপজেলার দরবস্ত, তালুককানুপুর, ফুলবাড়ী, নাকাইহাট, হরিরামপুর, মহিমাগঞ্জ, শালমারা, কোচাশহর, কামারদহ, গুমানিগঞ্জ, সাপামারা, কাটাবাড়ী সহ বেশ কিছু ইউনিয়নে বেশীর সংখ্যক কৃষক আখের চাষ করত। এছাড়াও করতোয়া নদী অধ্যূষিত চর এলাকার কৃষকরা প্রচুর পরিমান জমিতে আখ হতো। জেলার একমাত্র রাষ্ট্রয়াত্ব ভারী শিল্প রংপুর চিনিকল বন্ধ হওয়ায় স্থানীয় কৃষকরা আখ চাষে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং বিভিন্ন ধরণের ফসল উৎপাদন শুরু করে। কিন্ত বার বার বন্যা সহ নানা রোগবালাইয়ে ক্ষতির শিকার হওয়ায় তারা আবারো আখের চাষ শুরু করেছেন। অন্যান্য ফসলের তুলনায় রোগবালাই কম হওয়ায় এবং আখের দাম ভাল পাওয়ায় কৃষকরা আবারো আখ চাষে ঝুঁকছেন ।
কৃষকরা জানান জয়পুরহাট চিনিকল ও স্থানীয় ভাবে আখের গুড় প্রস্তত কারকদের কাছে চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপদিত আখ বিক্রির ক্ষেত্রে হয়রানি ছাড়াই ভাল দামে বিক্রি করে আর্থিক ভাবে লাভবান হওয়ায় অনেকেই আগ্রহী হচ্ছেন আখ চাষে। গত দু’বছরের চেয়ে কয়েক গুন বেশি হয়েছে আখের আবাদ। রংপুর চিনিকলটি বন্ধ ঘোষণার কারণে বিগত কয়েক বছর আখ চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেও আবারো নতুন করে আখের আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে।
রংপুর চিনিকল সুত্রে জানা গেছে শুধু গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় নয় এবার চিনিকল জোন এলাকায় আখ রোপন বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ২৩-২৪ আখ রোপন মৌসুমে আখ রোপন হয়েছিল ৩৫০ একর জমিতে। আর বর্তমান ২৪-২৫ মৌসুমে আখ রোপণ করা হয়েছে ৫৫৭ একর জমিতে যা গত বছরের তুলনায় ২০৭ একর বেশী।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে এবছর ২৮৭ হেক্টর জমিতে আখের চাষ করা হয়েছে। এছাড়াও চিবিয়ে খাওয়ার আখ চুইন ভ্যারাইটি ও কিউ-৬৯ জাতের আখ রয়েছে ৪০ হেক্টর জমিতে।
কৃষকরা বলছেন অনুকূল আবহওয়ায় আখ আবাদে রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ কম। এছাড়াও আখ চাষ উৎপাদন ব্যয় কমে। সেই সাথে আখের মূল্য বাড়ায় বর্তমান বাজার দরে আর্থিক ভাবে লাভবান হবেন তারা। এক বিঘা জমিতে আখ আবাদে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা ব্যয় হলেও আখ বিক্রি হয়ে থাকে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা।
দরবস্ত ইউনিয়নের গোশাইপুর গ্রামের সেলিম মিয়া বলেন, আমার বাড়ী নদী এলাকায় । চিনিকল বন্ধ হলে বন্যার পর এই জমি বালুময় পরিত্যাক্ত থাকতো। বাধ্য হয়ে এই জমিতে বিভিন্ন ফসল চাষ শুরু করি। কিন্ত বন্যায় ক্ষতির শিকার হওয়ায় এখন আবার এই জমিতে আখের চাষ করে বেশ লাভবান হচ্ছি।
রেজ্উাল ইসলাম বলেন, রংপুর চিনিকল চালু থাকলে আমরা আরো বেশী লাভবান হতাম। এখন গুড়ের দাম বেশী যেকারণে জয়পুর হাট চিনিকলে দেয়া পাশাপাশি গুড় তৈরী কারকদের কাছে ভাল দামে নগদ মূল্যে বিক্রি করি। তবে আখের চাষ বৃদ্ধি করে পুনরায় বন্ধ রংপুর সুগার মিলস চালু করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া দরকার।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মেহেদী হাসান বলেন আখ দীর্ঘ মেয়াদী ফসল হলেও আখের মধ্যে সাথী ফসল করায় এটি কৃষদের কাছে লাভজনক ফসল হয়ে উঠেছে। নানা জাতের আখ চাষে কৃষদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
আমন্ত্রণ/এসিজি
গোবিন্দগঞ্জে রংপুর চিনিকল বন্ধ থাকলেও ভাল দাম পাওয়ায় বেড়েছে আখ চাষ
আগস্ট ২৮, ২০২৪


































