বগুড়া ব্যুরো ও শাজাহানপুর প্রতিবেদক :
বগুড়ার শাজাহানপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সজিবুল ইসলাম সজিবকে মারপিটের ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ও মানবাধিকার কর্মী শরিফুল ইসলাম বাদলকে আটক করেছে পুলিশ।
শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিক ইকবাল বলেন, “তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা কাফি ও সাবেক শ্রমিক লীগ নেতা বর্তমান বিএনপি নোতা কোরবান আলী নামের দুই ব্যক্তি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সজিবুল ইসলাম সজিবকে তার বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। পরে তারা বীরগ্রাম স্ট্যান্ডে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা আসক ফাউন্ডেশন-এর উদ্যোগে পরিচালিত ‘ন্যায্য বাজার লিমিটেড’-এর কার্যালয়ে প্রবেশ করেন।
সেখানে উপস্থিত ছিলেন আসক ফাউন্ডেশনের শাজাহানপুর উপজেলা শাখার সভাপতি এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে পরিচিত শরিফুল ইসলাম বাদল। তিনি দাবি করেন, সজিব তার প্রতিষ্ঠানের বৈধ কাগজপত্র দেখার পরও বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করেন এবং চাঁদা দাবি করেন। একপর্যায়ে ক্যাশ ড্রয়ারে থাকা টাকা নেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি বাধা দেন। এ সময় সজিব তার ওপর হামলা চালিয়ে মাথায় আঘাত করেন বলে অভিযোগ করেন বাদল।
বাদলের ভাষ্য অনুযায়ী, তার মাথা থেকে রক্ত বের হতে শুরু করলে আশপাশের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে সজিবকে গণপিটুনি দেন। এ সময় সজিবের সঙ্গে থাকা কাফি ও কোরবান আলী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, “স্থানীয়দের হাত থেকে সজিবকে উদ্ধার করে পুলিশের সহযোগিতায় হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করি। আমিও শাজাহানপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করি।”
বাদলের দাবি, “আমরা ব্যবসা করছি না; মানবকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছি। স্বল্পমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছি এবং সরকারের কর্মসূচিকে সহায়তা করছি। সেখানে চাঁদা দাবি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। একজন সাংবাদিক ও বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”
তবে স্বেচ্ছাসেবক লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি বাদল অস্বীকার করলেও অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৬ মার্চ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জুয়েল ও সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামানের স্বাক্ষরিত এক প্যাডে তাকে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
এদিকে, সাংবাদিক সজিবের সঙ্গে থাকা কোরবান আলীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অন্যদিকে, গুরুতর আহত সাংবাদিক সজিবুল ইসলাম সজিবের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার পর দীর্ঘ সময় তার জ্ঞান ফেরেনি এবং তিনি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
হাসপাতালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সজিবের মা বলেন, “কাফি ও কোরবান নামে দুইজন আমার ছেলেকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। তারা এলাকার ভালো মানুষ নয়। আমার ছেলে যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে, সেজন্য সবার কাছে দোয়া চাই। আমার ছেলেকে ভুল বুঝিয়ে অন্য পথে প্রভাবিত করা হয়েছে। সে মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ায়।”
সজিবের চাচা, বিএনপি নেতা ও সাংবাদিক নেতা সাইদুজ্জামান তারা বলেন, “আওয়ামী লীগের দোসররা পরিকল্পিতভাবে সজিবের ওপর হামলা চালিয়েছে।” তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
ঘটনাটি নিয়ে শাজাহানপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি জিয়াউর রহমান বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।” তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি আহত সাংবাদিক সজিবের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
এ বিষয়ে শাহজাহানপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আশিক ইকবাল জানান সাংবাদিক সচিব কে মারধর করার খবর শোনার সাথে সাথে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠায় এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত একজনকে আটক করা হয়
আমন্ত্রণ/এজি
বগুড়ায় দিনকালের সাংবাদিক সজিবকে মারপিট, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আটক
জুলাই ৩, ২০২৬
































