৩ বছরে ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণ গেছে পাঁচজন মোটরসাইকেল আরোহীর
অমর চাঁদ গুপ্ত অপু ও হিরেন্দ্রনাথ বর্মন হিরু, আমন্ত্রণ :
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী রেল স্টেশন থেকে উত্তরের মোবারকপুর রেলগেটে গেটম্যান না থাকায় গত ৩ বছরে টেকে কাটা পড়ে পাঁচজন মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে চারজনই ছিলেন ওষুধ কোম্পানীর বিক্রয় প্রতিনিধি এবং একজন ধান ব্যবসায়ী।
মোবারকপুর রেলগেট সংলগ্ন চা দোকানী হামিদুল হক বলেন, এই রেলগেট খোলা থাকা অবস্থাতেই রেলওয়ের যাত্রীবাহী ১২টি ডাউন এবং ১২টি আপ ট্রেন প্রতিদিন চলাচল করে থাকে। এছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন সময়ে মালবাহী ট্রেন। একই সাথে এই রেলগেট দিয়ে ফুলবাড়ী সদরের সঙ্গে সড়ক পথের যোগাযোগ রয়েছে প্রায় ৩০টি গ্রামের মানুষের। এজন্য এ সড়ক পথে প্রতিদিন অন্তত ২০ থেকে ২৫ হাজার লোকজন রিকশাভ্যান, অটোরিকশা ও চার্জারভ্যানেসহ মোটরসাইকেল, কার, মাইক্রোবাস, মালামাল বহনকারী ছোটবড় ট্রাক, ট্রলি, নথিমন, করিমনসহ বাইসাইকেলে যাতায়াত করে থাকেন। রেলগেটটিতে গ্যাটম্যান না থাকায় এ পথে চলাচলকারীরা ট্রেন আসার বিষয়টি বুঝতে না পারায় প্রায়ই সময় রেললাইনের ওপরে ওঠে গিয়ে ট্রেন দেখতে গিয়ে দ্রত রেলগেট পার হয়ে যান অথবা পেছনে ফিরে আসেন। কিন্তু যখন খুব কাছাকাছি ট্রেন চলে আসার কারণেই হতাহতের ঘটনা ঘটে যায়।
পার্শ্ববর্তী রসুলপুর গ্রামের রিকশাভ্যান চালক আব্দুল হাই বলেন, গত দুইমাস আগে একজন মোটরসাইকেল নিয়ে রেলগেট পার হওয়ার সময় পার্বতীপুর থেকে ঢাকা গামী পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই ওই ব্যক্তি মারা যান। পরে জানা যায় লোকটি ওষুধ কোম্পানী বিক্রয় প্রতিনিধি ছিলেন। তবে বাড়ীর ঠিকানা স্থানীয়রা জানতে পারেননি।
পার্শ্ববর্তী ঢেড়েরহাটের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, মোবারকপুর রেলগেট পারাপার হয়ে প্রতিদিন ফুলবাড়ীতে যাতায়াত করতে হয় বিভিন্ন ব্যবসায়ীক কাজে। কিন্তু গেটম্যান না থাকায় কখন ট্রেন চলে আসে তা কেউ জানে না। আবার বোঝারও উপায় থাকে না কখন কোন দিক থেকে ট্রেন আসছে। অনেক সময় লাইনের ওপর উঠে দিয়ে ট্রেন দেখে তড়িঘড়ি করে পার হতে হয়। যদি ট্রেন কাছাকাছি চলে আসে তবে মৃত্যু ছাড়া অন্য কোনো কিছুই থাকে না। চোখের সামনে দু-দফায় ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু দেখেছেন তিনি। তখন থেকে গেটে এসে মোটরসাইকেল থামিয়ে লাইনে পাশ থেকে ট্রেনের অবস্থান থেকে গেট পারাপার করেন। তবে যানমালের নিরাপত্তার জন্য ব্যস্ততম রেলগেটটিতে গেটম্যান নিয়োগের দাবি জানান তিনি।
মোবারকপুর এলাকার রেললাইনের তদারকির দায়িত্বে থাকা ওয়েম্যান বর্তমানে কীম্যানের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনকারী মাহাবুবুল আলম বলেন, তিনি রেল লাইনের ছোটখাটো ত্রæটি মেরামতসহ লাইনের দুইপার্শ্বের আগাছা পরিষ্কার করে থাকেন। তবে বড় ধরনের ত্রæটি দেখা দিলে সেটি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেন। তিনি বলেন, রেললাইনের তদারকির জন্য মোবারকপুর রেলগেটের আশপাশেই থাকতে হয়। তবে এ পথে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ রেলগেট পারাপার করে যাতাযাত করেন। গেটম্যান না থাকায় মাঝে মধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। গেটম্যান থাকলে এমন দুর্ঘটনা ঘটতো না।
ফুলবাড়ী রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার আনন্দ চক্রবর্তী বলেন, রেলগেটে গেটম্যান নিয়োগের ক্ষমতা রেলওয়ের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের।
রেলপথের ঝুঁকির জন্য ট্রেনের গতি কমিয়ে ট্রেন চলাচলের বিষয়টি স্বীকার করে পার্বতীপুরের উর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (পিডাব্লিউআই) (পথ) শেখ আল আমিন বলেন, মোবারকপুর রেলগেটটি বি গ্রেডের রেলগেট। এটিতে গেটম্যান নিয়োগ চাইলে এলাকাবাসীকে রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম), পশ্চিমাঞ্চল, রাজশাহী বরাবর আবেদন করলে তিনিই এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।
আমন্ত্রণ/এজি
































