১৫দিনের মধ্যে ৮ দফা দাবি পূরণ না হলে রেলপথ অবরোধের আল্টিমেটাম ঘোষণা
অমর চাঁদ গুপ্ত অপু ও আমিনুল ইসলাম, আমন্ত্রণ :
ফুলবাড়ী রেলস্টেশনে আন্তঃনগর পঞ্চগড় ও কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রা বিরতিরসহ স্টেশনকে আধুনিকায়ন, প্লাটফর্ম সম্প্রসারণ, ট্রেনের আসন সংখ্যা বৃদ্ধিসহ ৮ দফা দাবিতে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
ফুলবাড়ী উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ নামের ব্যানারে রেল স্টেশন প্লাটফর্ম চত্বরে আজ শুক্রবার (১৫ মে) সকাল ১০ টা থেকে সকাল ১১ টা পর্যন্ত ৮ দফা দাবিতে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
দাবির সমর্থনে বক্তব্য রাখেন ফুলবাড়ী শাখা তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহবায়ক সৈয়দ সাইফুর ইসলাম জুয়েল, দিনাজপুর জেলা শাখা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব ইমরান চৌধুরী নিশাদ, ফুলবাড়ী শাখা গণসংহতি আন্দোলনের সদস্য সচিব আব্দুল মোত্তালিব পাপ্পু, ফুলবাড়ী শাখা বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি মো. রবিউল ইসলাম, ফুলবাড়ী থানা ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য সচিব মো. মানিক মন্ডল, ফুলবাঢ়ী সম্মিলিত নাগরিক সমাজের আহবায়ক শ্রমিক নেতা মো. হামিদুল হক, মো. মোতালেব হোসেন মহররম, শিহাব হোসেন, সাকিরুল ইসলাম প্রমুখ।
৮দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, ফুলবাড়ী রেল স্টেশনের আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন নতুন ভবন নির্মাণ করা, রেলস্টেশনের প্লাটফর্ম সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন করা, যাত্রীদের নিরাপদে চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত আলো, ফুট ওবার ব্রিজ নির্মাণ ও বসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, রেল স্টেশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য পর্যাপ্ত অফিস কক্ষ নির্মাণ, বিভিন্ন আন্তঃনগর ট্রেনের ফুলবাড়ীর আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করা, আন্তঃনগর পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ও কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনের ফুলবাড়ী রেলস্টেশনে যাত্রা বিরতির ব্যবস্থা করা, স্টেশনে আধুনিক টিকিটিং ব্যবস্থা, ডিজিটাল তথ্যসেবা ও নিরাপত্তা জোরদার করা এবং ভবিষ্যতে ফুলবাড়ী রেলস্টেশনকে উত্তরাঞ্চলের একটি পুর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক রেল হাবে উন্নীত করার উদ্যোগে গ্রহণ করা।
বক্তারা আরও বলেন, এ অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ফুলবাড়ীতে আন্তঃনগর পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ও কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেন দুটির যাত্রাবিরতির দাবি জানিয়ে আসলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি সংশ্লিষ্টরা। রাজধানী ঢাকসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ১৭ মে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে রেলপধ মন্ত্রী বরাবর ৮দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারক লিপি পেস করা হবে। স্মারকলিপি পেশ করার ১৫ দিনের মধ্যে দাবিগুলো পূরণ করা না হলে আগামীতে দাবি আদায়ের জন্য ফুলবাড়ীর জনগণ অর্ধদিবস রেলপথ অবরোধসহ ফুলবাড়ী রেলস্টেশন ঘেরাও কর্মসূচি পালন করবেন।
বক্তারা আরও বলেন, ফুলবাড়ী রেলস্টেশনের বর্তমান ভবন জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রতিদিন হাজারো যাত্রী এই রেলস্টেশন ব্যবহার করলেও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না। দ্রæত নতুন ভবন নির্মাণ ও রেলস্টেশনকে আধুনিকায়ন করতে হবে।
স্থানীয়রা জানান, ফুলবাড়ীর উপজেলা সদর সংলগ্ন বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি, বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, মধ্যপাড়া পাথরখনি, পিকনিক কর্নার স্বপ্নপূরী, ফুলবাড়ীতে বিজিবি ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর, প্রাণ-আরএফএল কোম্পানী সহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারিসহ তাদের পরিবার পরিজনকে ফুলবাড়ী রেলস্টেশন ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতে হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদেরও স্ব স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে এই রেলস্টেশনকেই ব্যবহার করতে হচ্ছে। এছাড়াও পার্শ্ববর্তী পার্বতীপুর ও নবাবগঞ্জ উপজেলার কিছু অংশের মানুষ ফুলবাড়ী রেলস্টেশন দিয়েই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রেলপথে যাতায়াত করে থাকেন। রেলস্টেশনটিতে আশানুরূপ আয় হলেও স্টেশনটি দির্ঘদিন ধরে অবহেলা ও অযতেœ পড়ে রয়েছে।
এদিকে ফুলবাড়ী রেলস্টেশনে আসন স্বল্পতার কারণে এই স্টেশনে যাত্রা বিরতি ট্রেনগুলো রাজস্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে না। একইসাথে স্টেশনটি বৃটিশ আমলের হলেও প্লাটফর্ম সম্প্রসারণ, আধুনিক ভবন, প্লাটফর্মের সেড না থাকায় বর্ষাকালে যাত্রীদের বৃষ্টির পানিতে ভিজেই ট্রেনে উঠানামা করতে হয়।
ফুলবাড়ী স্টেশন সূত্রে জানা যায়, ফুলবাড়ী স্টেশন দিয়ে ডাউনে ১১টি এবং আপ-এ ১১টি আন্তঃনগর ও মেইল ট্রেন যাতায়াত করে থাকে। এরমধ্যে আন্তঃনগর পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ও আন্তঃনগর কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেন দুটির যাত্র বিরতি নেই ফুলবাড়ী রেলস্টেশনে। যেসব ট্রেন ফুলবাড়ী রেলস্টেশনে দাঁড়ায় সেই ১১টি ট্রেন থেকে প্রতিমাসে প্রায় ৪৫ লাখ টাকার রাজস্ব আয় হচ্ছে। যা এক বছরে ৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা দাঁড়ায়।
৮দফা দাবিতে আয়োজিত মানবন্ধন কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ অংশ নেন।
আমন্ত্রণ/এজি
































