বিপুল সরকার সানি, দিনাজপুর :
যৌতুক ও পরকীয়ার জন্য শারীরিক নির্যাতন করে মেয়েকে হত্যার প্রতিবাদে ও বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন পিতা। আজ শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকালে দিনাজপুর প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলন করেছেন সদর উপজেলার শশরা বৈরাগীদিঘী গ্রামের আব্দুস সাত্তার। এ সময় তার চাচা আব্দুল মালেক উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গত ২০২৪ সালের ৮ মার্চ জেলার পার্বতীপুর উপজেলার দন্ডপানি গ্রামের আজিজার রহমানের ছেলে সআব্দুস শুকুর সিপাতের সঙ্গে আমার মেয়ে মোছা. সালমা জাহান বৃষ্টির বিয়ে হয়। বিয়ের পর চাকুরীর সুবাদে যশোরে তারা ভাড়াবাড়ীতে বসবাস করতো। বিয়ের এক বছরের মধ্যে তার ঘরে এক কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। এরপরেই নানা অজুহাত দেখিয়ে বৃষ্টির উপর নি র্যাতন শুরু হয়। সিফাত কিছুদিন পরেই পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। এক সময় বৃষ্টিকে যৌতুকের জন্য চাপ দিত এবং যৌতুকের জন্য শারীরিক নির্যাতন চালাতে থাকে। আমার মেয়ে শারীরিক যন্ত্রনা সহ্য করতে না পেরে তাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের প্রায় মোবাইল করতো। এক সময় তাকে বাড়িতে নিয়ে আসি। স্বামী সিফাত তাকে যেতে বললে আমার মেয়ে যেতে চাইতোনা। জোর করে যশোরে স্বামীর বাড়িতে পাঠানো হয় ২০২৫ সালের ২৬ অক্টোবর। এর তিনদিন পর আমাদেরকে জানানো হয় বৃষ্টি ষ্ট্রেক করে মারা গেছে। খবর শুনে যশোর গিয়ে দেখতে পাই আমার মেয়ের মৃতদেহ পড়ে আছে। আমি দিশেহারা হয়ে পড়ি। মেয়ের কোন অসুখ ছিল না। সেখানে ময়না তদন্ত না করেই এক রকম জোর করেই আমার মেয়ের লাশ নিয়ে চলে আসতে হয়। আমরা জানতে পারি ভাড়াবাড়িতে সিফাত ৩ দিন ছিল না। তবে মারা যাবার দিন সিফাত রাতে বাড়িতে মোটরসাইকেল নিয়ে আসে। রহস্যজনকভাবে আবার সেই রাতেই চলে যায়। এ নিয়ে আমরা আইনী পদক্ষেপ নিতে গিয়ে বিভিন্নভাবে বাধা এবং হুমকীর সম্মুখীন হয়েছি।
আমাদের বিশ্বাস যৌতুক এবং পরকীয়ার কারণে আমার মেয়ে বৃষ্টিকে মেরে ফেলেছে সিফাত। তাকে গ্রেফতার করলে আসল রহস্য বের হয়ে আসবে। মেয়ের প্রকৃত হত্যাকারী বের হওয়া ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।
আমন্ত্রণ/এজি


































