বগুড়া ব্যুরো :
বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলা তিসিগাড়ি থেকে চেঙ্গা পাল পাড়া হয়ে ডিমশহর স্কুল পর্যন্ত দুই কিলোমিটার সড়কের সংস্কারসহ কার্পেটিংয়ের কাজ ৫ বছরেও শেষ হয়নি। মাঝপথে ফেলে রেখে ঠিকাদার লাপাত্তা হওয়ায় যানবাহনসহ সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের উপজেলা সদরের তিসিগাড়ি থেকে চেঙ্গা পালপাড়া হয়ে ডিমশহর স্কুল পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটারের অধিক এই গুরুত্বপূর্ন সড়কটি দুপচাঁচিয়া পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের চেঙ্গা পালপাড়ার মানুষের চলাচলের একমাত্র পথ। প্রায় দুই কিলোমিটারের অধিক সড়কটির বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং এর পাথর ও খোয়া উঠে গর্তের সৃষ্টি হয়।
পৌরসভা থেকে সড়কটি সংস্কারের জন্য নগর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০১৯-২০ অর্থ বছরে প্রায় ৪৮ লাখ ১৯ হাজার ১৫০ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প গ্রহণ করে দরপত্রের মাধ্যমে ঠিকাদার নির্বাচিত করা হয়। ২০২০ সালের ১৫ আগস্ট প্রকল্পটি শেষ করার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। নির্বাচিত ঠিকাদার ২০২০ সালের প্রথমার্থে প্রকল্পটির কাজ শুরুও করেন।
ইটের খোয়া দিয়ে রাস্তাটি প্রাথমিক সমতলের কাজ করে মাঝ পথে তা ফেলে রেখেছে। দীর্ঘদিন ফেলে রাখায় সড়কটির বিভিন্ন স্থানে খোয়া উঠে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। চলাচলের অনুপযোগী করে সড়কটির কাজ ফেলে রেখে ঠিকাদার আত্মগোপনে চলে যায়।
মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) ভুক্তভোগী চেঙ্গা গ্রামবাসী হারুন অর রশিদ, স্বপন পাল, রঞ্চিত কুমার পাল, ফনিন্দ্রনাথ পালসহ অনেকেই জানান সড়কটি সংস্কার কাজ মাঝপথে ফেলে রাখায় বর্ষা মৌসুমে সড়কটি কর্দমাক্ত অবস্থায় পরিণত হয়।
শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালিতে ভরে থাকে। এ ছাড়াও খোয়াগুলো উচু-নিচু হয়ে বের হয়ে থাকায় সাধারণ মানুষসহ যানবাহন চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অটোভ্যান, ব্যাটারিচালিত ভ্যান, মোটরসাইকেলের টায়ার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ঠিকাদারের গাফিলতের কারণে ২০২০ সালে শুরু হওয়া কাজটি আজও শেষ হয়নি।
এ বিষয়ে দুপচাঁচিয়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ কামরুল হাসান জানান, প্রকল্পের বরাদ্দ না থাকায় দীর্ঘদিন কাজটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। ঠিকাদারও কাজ ফেলে রেখে চলে যায়। রাস্তার কার্পেটিং কাজের পাথর পিচসহ অন্যান্য সরঞ্জামাদী দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ঠিকাদার লাপাত্তা থাকে।
এরই মাঝে বরাদ্দ এলেও ঠিকাদার আত্মগোপনে থাকায় তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। যোগাযোগ হওয়ার পর বর্ষাকাল শুরু হয়। বৃষ্টির কারণে কাজের বিলম্ব ঘটে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই প্রকল্পটির সংস্কারসহ কার্পেটিংয়ের কাজ বাস্তবায়ন করবেন বলেও জানান।
আমন্ত্রণ/এসিজি


































